দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই একের পর এক ঝড় তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার রীতিমতো কাঁপন ধরিয়ে দিলেন বিশ্ব অর্থনীতিতে। বাংলাদেশসহ ১৮৫টি দেশ-অঞ্চলের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির জেরে বিশ্বজুড়ে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কায় বিশ্লেষকরা।
বলা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের জবাবে পাল্টা ট্যারিফ দিতে পারে অন্য দেশগুলোও। যার ফলে বেড়ে যাবে বিশ্বের প্রায় সব পণ্যের দাম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের জেরে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলে, চরম অস্থিরতা তৈরি হবে আন্তর্জাতিক বাজারে।
অর্থনীতিবিদ থমাস ব্রিজেস বলেন, এই শুল্ক দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতির ভিত্তির ওপর যথেষ্ট প্রভাব পড়বে। সব আমদানি পণ্যে যদি অন্য দেশগুলোও শুল্কারোপ শুরু করে তাহলে বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। যেমন ধরা যাক, তাইওয়ান কম্পিউটার চিপ আমদানি করে। শুল্ক বাড়লে চিপের দামও বাড়বে। বাড়বে কম্পিউটারের দামও।
যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতে অন্য দেশগুলোও একই পদক্ষেপ নিলে শুরু হবে ভয়াবহ বাণিজ্য যুদ্ধ। যার জেরে আবারও তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়তে পারে বিশ্ব, এমন শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
অর্থনীতিবিদ ভ্লাদিমির তায়ঝেলনিকোভের মতে, বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। ট্রাম্পের শুল্কারোপের জবাব স্বাভাবিকভাবেই অন্য দেশগুলো পাল্টা শুল্কারোপের মাধ্যমেই দেবে। এই বাণিজ্য যুদ্ধ যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে আমরা ২০১৪ সালের মতো বৈশ্বিক মন্দা দেখতে পাবো। এমনকি পরিস্থিতি সে সময়ের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্পকে থামানোর আপতত কোনো পথ নেই। আপিল বিভাগ সক্রিয় না হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডব্লিওটিও বর্তমানে রীতিমতো অকার্যকর। কাজেই সেখানে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাবে না ভুক্তোভোগী দেশগুলো।
ভ্লাদিমির তায়ঝেলনিকোভ বললেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ করে লাভ হবে না। ২০২০ সাল থেকে সংস্থাটির আপিল বিভাগ সক্রিয় নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নতুন বিচারক নিয়োগে বাধা দিয়ে আসছে, আর এই দ্বন্দ্বের সমাধানও হচ্ছে না।
কেউ কেউ বলছেন, অনেক দেশই এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যের জন্য নতুন বাজার খুঁজবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প পাওয়া সহজ হবে না।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।