ভৈরব প্রতিনিধি :
বাগেরহাটে ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়া সিভিল সার্জনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত (ওএসডি) করার একদিন পর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সেই বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাক্তার জালাল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অন্যের জায়গার একাংশ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্ঠগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর পুত্র অভিযুক্ত ডাক্তার জালাল উদ্দিন আহমেদ ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরিকালে শহরের কমলপুর নিউটাউন এলাকায় কমলপুর মৌজার ৬৮১৩ দাগে প্রায় দেড় কোটি টাকায় ৬.৬৪ শতাংশ জায়গা কেনেন। পরে তিনি তার ক্রয়কৃত ৬৮১৩ দাগের জায়গা লাগোয়া ভুক্তভোগী জুম্মান মিয়ার ৬৮১০ দাগের প্রায় ২ শতাংশ জায়গা জবরদখল করে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেন।
২ এপ্রিল, বুধবার দুপুরে ভৈরব প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার হাজী মনু বেপারী বাড়ির যুবদল নেতা ভুক্তভোগী মোঃ জুম্মান মিয়া। ওই ৬ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ করার সময় ভুক্তভোগী জুম্মান মিয়া বাধা প্রদান করলেও তখন আওয়ামীলীগের ক্ষমতা দেখিয়ে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ করেন এবং ওই ভুক্তভোগীকে পুলিশ ও বিভিন্ন আওয়ামীলীগের লোকজনের মাধ্যমে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগী জানান, জায়গা ফিরে পেতে সাবেক সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন আহমেদের কাছে বারবার যাওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। আমিনের মাধ্যমে একাধিক বার জায়গা মাপার পর দখলের প্রমাণ পেলেও বিষয়টি সমাধান না করে উলটো মামলা দিয়ে হয়রানি করার পাঁয়তারা করছে।
তিনি বলেন, একজন সরকারি চাকুরিজীবী হয়ে ডাক্তার জালাল উদ্দিন কীভাবে দেড় কোটি টাকার জায়গা কেনেন এবং কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ৬ তলাবিশিষ্ট আলিশান বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। তা ছাড়া তিনি বিভিন্ন স্থানে নামে বেনানে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব টাকার উৎস খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা ও তার দৃষ্টান্ত শাস্তি কামনা করেন।
স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট সাবেক সিভিল সার্জন ডাক্তার জালাল উদ্দিন অন্যের জায়গা দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করায় ওই জায়গা ফিরে পেতে এবং তার হয়রানি থেকে রেহাই পেতে বর্তমান সরকার, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করেন ওই ভুক্তভোগী জুম্মান মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী মো: জুম্মান মিয়া, অনন্ত আহামেদ ও ভৈরব গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জোবায়ের মাহমুদ আফজাল প্রমুখ।
ভৈরব গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট সিভিল সার্জন ডাক্তার জালাল উদ্দীন আহামেদ বাগেরহাটের সিভিল সার্জন থাকাকালীন সম্প্রতি জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ছাত্রজনতার তোপের মুখে ওএসডি হওয়ার একদিন পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠান সরকার। সে আওয়ামীলীগের ক্ষমতা দেখিয়ে ভুক্তভোগী জুম্মান মিয়ার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বিল্ডিং কোড অমান্য করে ৬ তলা বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার বেতন কত এবং পরিবারের খরচ মিটিয়ে কীভাবে এত টাকা দিয়ে বাড়ি কিনে ৬ তলা বিল্ডিং করেছে। তার টাকার উৎস কোথায় তা খুঁজে বের করতে দুদকের অনুসন্ধান ও তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক সিভিল সার্জন ডাক্তার জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি তার ক্রয়কৃত জায়গায় বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে কয়েক বার জায়গা মাপও করেছেন। জায়গায় যদি সমস্যা থাকে তাহলে প্রতিপক্ষকে মামলা করতে বলেন। সর্বশেষ তিনি পরিবারের সাথে পরামর্শ করে জায়গা মাপ করে সুরাহা করবেন বলেও জানান।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।